কারিকুলাম
ফাউন্ডেশান কারিকুলাম । নার্সারি — ক্লাস ৫
০১আমাদের ভিশন
কেন এই স্কুল — কী লক্ষ্য
এই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হলেন আপনি — শিক্ষক। কারিকুলাম যতই সুন্দর হোক, শিক্ষক যদি সঠিক না হন — সবকিছু ব্যর্থ হয়। আর শিক্ষক যদি নিষ্ঠাবান হন — দুর্বল কারিকুলামও সফল হয়।
০২কারিকুলামের কাঠামো
Nursery থেকে Class 5 — সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
🕌 দ্বীনি শিক্ষা ৩৫%
- কুরআন তিলাওয়াত ও তাজবীদ
- সূরা মুখস্থ ও হাদিস
- আকীদা ও ফরজে আইন
- সীরাহ্ ও ইসলামিক ইতিহাস
- আরবি ভাষা ও নাহু
📘 আধুনিক শিক্ষা ৪০%
- ইংরেজি ভাষা ও Grammar
- গণিত ও যৌক্তিক চিন্তা
- বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ
- বিজ্ঞান ও পরিবেশ
- কম্পিউটার ও ডিজিটাল
🌱 চরিত্র গঠন ২৫%
- সুন্নাহভিত্তিক আদব
- আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব
- শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ
- উপস্থাপনা দক্ষতা
- ইসলামী পরিচয়ের গর্ব
০৩একজন আদর্শ তিবইয়ান শিক্ষক
তিনটি গুণে সমন্বিত
🕌 দ্বীনদার
- নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি
- সুন্নাহ মেনে চলেন
- সালাম দিয়ে ক্লাস শুরু করেন
- আচরণে ইসলামী আদব প্রকাশ পায়
- শিশুরা আপনাকে দেখে শেখে
📘 দক্ষ
- বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখেন
- পাঠ পরিকল্পনা করে আসেন
- বয়স অনুযায়ী সহজ করেন
- কারিকুলাম অনুসরণ করেন
- নিজে প্রতিনিয়ত শেখেন
❤️ শিশুবান্ধব
- প্রতিটি শিশুকে আলাদা বোঝেন
- কখনো তুলনা করেন না
- ভালোবাসা দিয়ে পড়ান
- ভুলে শাস্তি নয়, সংশোধন করেন
- সাফল্যে উৎসাহ দেন
০৪দৈনিক পাঠদান কাঠামো
সময় বিভাজন ও উদ্দেশ্য
নিচের রুটিনটি একটি আদর্শ কাঠামো। শ্রেণি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিচালক অনুমোদন সাপেক্ষে পরিবর্তন করা যাবে।
| সকাল শুরু (প্রথম ৩০ মিনিট) | কুরআন তিলাওয়াত ও সূরা মুখস্থের পুনরাবৃত্তি। দিনটা কুরআন দিয়ে শুরু হবে — এটা শিশুর মন ও হৃদয় প্রস্তুত করে। |
| প্রথম সেশন (৪৫–৬০ মিনিট) | দ্বীনি বিষয় — হাদিস, আদব, আকীদা, ফিকহ বা সীরাহ্। দিনের সবচেয়ে মনোযোগী সময়ে দ্বীনি জ্ঞান। |
| দ্বিতীয় সেশন (৪৫–৬০ মিনিট) | ইংরেজি ভাষা — Reading, Writing বা Speaking। ভাষা শিক্ষার জন্য নিয়মিত চর্চা অপরিহার্য। |
| তৃতীয় সেশন (৪৫ মিনিট) | গণিত বা বিজ্ঞান। যৌক্তিক চিন্তার বিষয়গুলো মাঝামাঝি সময়ে। |
| বিরতি (১৫–২০ মিনিট) | খেলাধুলা, বিশ্রাম। শিশুর মানসিক বিকাশে বিরতি অপরিহার্য। |
| চতুর্থ সেশন (৪৫ মিনিট) | আরবি ভাষা — শব্দ, বাক্য বা ব্যাকরণ। কুরআনের ভাষাকে ভালোবাসতে শেখানো। |
| পঞ্চম সেশন (৩০–৪৫ মিনিট) | বাংলা, সাধারণ জ্ঞান বা কম্পিউটার (শ্রেণি অনুযায়ী)। |
| দিন শেষ (শেষ ১০ মিনিট) | দোয়া, আজকের শিক্ষার পর্যালোচনা এবং আদবের সাথে বিদায়। শিশু যেন প্রতিদিন কিছু নিয়ে বাড়ি যায়। |
০৫মূল্যায়ন পদ্ধতি
পরীক্ষা নয় — প্রমাণ
একটি শিশু কতটুকু মুখস্থ করলো সেটা নয়, বাস্তবে কতটুকু পারে সেটাই মানদণ্ড।
| ① Practical দক্ষতা যাচাই | কুরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ কিনা সরাসরি শুনুন। নামাজ সঠিকভাবে আদায় হচ্ছে কিনা দেখুন। ইংরেজিতে কথা বলতে পারছে কিনা উপস্থাপনায় যাচাই করুন। সক্ষমতাই মানদণ্ড। |
| ② মাসিক পোর্টফোলিও রিপোর্ট | প্রতি মাসে প্রতিটি শিশুর অগ্রগতি রিপোর্ট লিখুন। সূরা মুখস্থ, হাদিস জ্ঞান, ইংরেজি দক্ষতা, আদব ও আচরণ — সবকিছু সংক্ষেপে। এটা অভিভাবককেও জানানো হবে। |
| ③ আদব ও চরিত্রের পর্যবেক্ষণ | শিশু সালাম দিচ্ছে কিনা, শিক্ষকের সাথে আদবের সাথে কথা বলছে কিনা, সহপাঠীদের সাথে আচরণ কেমন — প্রতিদিন খেয়াল রাখুন। সংখ্যায় নয়, বর্ণনায় লিখুন। |
| ④ বার্ষিক উপস্থাপনা দিবস | বছর শেষে প্রতিটি শিশু অভিভাবকদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করবে এবং ইংরেজিতে কিছু উপস্থাপন করবে। এটার প্রস্তুতি বছর জুড়ে নিন। |
০৬অভিভাবক সম্পর্ক
স্কুল ও পরিবার — একই দলে
অভিভাবককে শত্রু নয়, অংশীদার মনে করুন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া শিশুর পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।
| সাপ্তাহিক | শিশুর দৈনন্দিন আচরণ ও মুখস্থের অগ্রগতি সংক্ষেপে অভিভাবককে জানান। ছোট একটি নোট বা মৌখিক জানানোই যথেষ্ট। |
| মাসিক | আনুষ্ঠানিক মাসিক রিপোর্ট — সূরা মুখস্থ, হাদিস, একাডেমিক অগ্রগতি ও আচরণ। অভিভাবক স্বাক্ষর নিন। |
| ত্রৈমাসিক | অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক। শিশুর শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। বাড়িতে কী করতে হবে তা জানান। |
| বার্ষিক | বার্ষিক উপস্থাপনা দিবস। অভিভাবকরা সরাসরি দেখবেন তাদের সন্তান কতটুকু শিখেছে। |
০৭শিক্ষক উন্নয়ন পরিকল্পনা
আমরাও প্রতিনিয়ত শিখবো
| প্রতি মাসে | পারস্পরিক পাঠ পর্যবেক্ষণ। একজন শিক্ষক আরেকজনের ক্লাস দেখবেন এবং গঠনমূলক মতামত দেবেন। |
| প্রতি তিন মাসে | আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ সেশন। নতুন পদ্ধতি, কারিকুলাম রিভিউ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়। |
| বছরে একবার | বার্ষিক মূল্যায়ন। প্রতিটি শিক্ষকের শক্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা। |
| যেকোনো সময় | শিক্ষক যদি কোনো সমস্যায় পড়েন — বিষয়ভিত্তিক, শিশু সংক্রান্ত বা অভিভাবক সম্পর্কিত — পরিচালকের দরজা সবসময় খোলা। |
০৮প্রথম মাসের কর্মপরিকল্পনা
শুরুটা ঠিক হলে বাকিটা সহজ হয়
| সপ্তাহ ১ | পরিচিতি সপ্তাহ। শিক্ষার্থীদের নাম, স্বভাব ও স্তর বুঝুন। শ্রেণিকক্ষের নিয়মকানুন ও আদব প্রতিষ্ঠা করুন। |
| সপ্তাহ ২ | মূল্যায়ন সপ্তাহ। প্রতিটি শিশু এখন কোথায় আছে তা বুঝুন — কুরআন, ইংরেজি, গণিত প্রতিটিতে। |
| সপ্তাহ ৩ | কারিকুলাম শুরু। পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করুন। প্রথম অভিভাবক পরিচিতি সভা করুন। |
| সপ্তাহ ৪ | পর্যালোচনা। প্রথম তিন সপ্তাহ কেমন গেল? কী ভালো হয়েছে, কী সংশোধন দরকার? পরিচালকের সাথে আলোচনা করুন। |
০৯আমাদের অঙ্গীকার
প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক — একই লক্ষ্যে
প্রতিষ্ঠান আপনার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ
- আপনাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে
- আপনার মতামতকে সম্মান দেওয়া হবে
- আপনার উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে
- আপনার যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকা হবে
আপনার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা
- নিষ্ঠার সাথে কারিকুলাম অনুসরণ করুন
- প্রতিটি শিশুকে ভালোবাসুন
- নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করুন
- এই প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করুন
একসাথে আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়বো — যারা দ্বীনদার, যোগ্য ও আত্মবিশ্বাসী।
— আত-তিবইয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কুল
প্রতিটি শ্রেণির বিস্তারিত সিলেবাস দেখুন
প্রতিটি ক্লাসের বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যক্রম, বছর শেষে অর্জন ও উত্তীর্ণের মানদণ্ড জানতে সিলেবাস পাতা দেখুন।